![]()
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট: আলোচনায় বসতে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন জে ডি ভ্যান্স
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য একটি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন বলে জানিয়েছে Axios, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে।
সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই তার পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সোমবার গভীর রাতেও রওনা হতে পারেন।
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষের পথে
এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালানো হবে।
প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ট্রাম্প ইতোমধ্যে সময়সীমা বাড়িয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি দেখা গেলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
তেহরানের ‘সবুজ সংকেত’
সোমবার সারাদিন White House অপেক্ষা করছিল তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতের জন্য।
সূত্র জানায়, ইরানের অভ্যন্তরে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর চাপের কারণে আলোচনায় যোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছিল। তাদের শর্ত ছিল—যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যস্থতায় তিন দেশ
এই আলোচনায় ইরানকে অংশগ্রহণে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে Pakistan, Egypt এবং Turkey।
তাদের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদকে আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল
আলোচনায় অংশ নিতে Donald Trump-এর বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং উপদেষ্টা Jared Kushner-এরও ইসলামাবাদে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এই আলোচনার গুরুত্ব ও সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
অনিশ্চয়তার মাঝেও আশা
যদিও স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন, তবুও আলোচনার সূচনা এবং তেহরানের সম্মতি পরিস্থিতিতে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে।
এখন দেখার বিষয়—এই শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সংঘাত নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, নাকি আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে।
পাঠকের মন্তব্য