![]()
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পণ্যমূল্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী Khandaker Abdul Muktadir। তাঁর মতে, খাদ্যদ্রব্য সরাসরি জ্বালানি তেল থেকে তৈরি হয় না; কেবল পরিবহন ও উৎপাদনে আংশিকভাবে জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয়ের মোট অংশের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির মূল্য বাড়লেও পণ্যমূল্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বৃদ্ধি খুবই সীমিত। এই সমন্বয় না করলে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যেত, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে বেশি চাপ তৈরি করত। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপীই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে—উন্নত দেশগুলোতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে Measles–Rubella Vaccination Campaign উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন খাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কৃষকদের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুই বছরে নানা অনিয়মের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তবে সরকার তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চলমান টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে এগোলে শিগগিরই দেশে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের অনুমোদন পেলে সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিদ্যমান অসন্তোষ দূর করতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পাঠকের মন্তব্য