![]()
প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে দেশে এখন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের হারানো রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার বা তাবেদার গোষ্ঠী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
আজ বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে E-Bail Bond System উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আইনমন্ত্রী Asaduzzaman Khan উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বয় ছাড়া দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সামাজিক ভারসাম্য, সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ন্যায়ের শাসন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই জামিননামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, ফলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমছে। আগে একটি জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বহু ধাপ অতিক্রম করতে হতো, এখন তা অনেক সহজ হয়েছে।
তিনি জানান, আজ থেকে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ সাত জেলায় এই পদ্ধতি চালু হলো। ভবিষ্যতে দেশের সব আদালতে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইকরণের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং ওয়ারেন্ট রিকল কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।” সরকার এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে—প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত।
এ সময় তিনি আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান, নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে।
এছাড়া কারাগারে বহু মানুষ অর্থাভাবে বা আইনজীবী না পেয়ে বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক থাকছেন উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
পাঠকের মন্তব্য