
ইবি রিপোর্ট
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, ঘটনাটি চাঁদাবাজির কারণে নয়; রাজধানীর মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে দখল-বেদখলের ঘটনায় ভাঙচুর হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ‘ভিকটিমাইজড’ হয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও মামলা হয়নি।
সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মামলা করেননি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সালমান মুক্তাদির একপর্যায়ে বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি; চাইলে তিনি দিতেন। এরপর বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নয়।
ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানিকদী নামাপাড়া এলাকার বিতর্কিত ওই জমি ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে সেখানে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামে একটি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জমিটি দখল করতে যায়। সেখানে গিয়ে তারা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালায়। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেডও ছিল, যেখানে তিনি কনটেন্ট তৈরির কাজ করতেন। দখল-বেদখলের ঘটনায় সেটিতেও ভাঙচুর হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সংঘর্ষ ও দখল-বেদখলের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা স্টুডিওতে ঢুকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকায় ছিলেন না। হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি বিমানে ঢাকায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ফেসবুক লাইভে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, হামলার সময় প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তবে হামলার মূল কারণ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা জমি দখল-বেদখলের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। মামলা হলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী অগ্রগতি জানানো যাবে।
পাঠকের মন্তব্য