![]()
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকাকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের আপত্তি ও তর্কবিতর্কের জেরে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর শুরু হয়েছে রিহ্যাবের (রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় প্রার্থীরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে নির্বাচন বোর্ড ও প্রার্থীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে সব প্যানেলের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সভাপতি প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। বিলম্বের কারণে ভোটের সময় ৪০ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন বোর্ড।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ছয় ঘণ্টা ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও দেরির কারণে সময় বাড়ানো হয়েছে। মোট ১০টি বুথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৬৭৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ১৬০টি ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।
রিহ্যাব নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, শুরুতে সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে প্রার্থীদের আপত্তির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করে ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়েছে।
বর্তমান সভাপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রার্থী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল, যাতে এ ধরনের বিলম্ব এড়ানো যায়।
অন্যদিকে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী মো. আলী আফজাল অভিযোগ করেন, পুরো ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবস্থা থাকলে স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত হতো। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি বোঝার জন্য বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাগরণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মোকাররম হোসেন খান বলেন, ভোটকেন্দ্রে এমন অনেক ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল যারা পোলিং এজেন্ট নন, অথচ প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছিলেন। বিষয়টি দুঃখজনক এবং ভোটারদের জন্য আরও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত ছিল।
ভোট শুরুর আগে হোটেলের প্রবেশমুখে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের ব্যালট ও লিফলেট হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে সামগ্রিকভাবে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন বলে জানা গেছে।
এবার রিহ্যাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সভাপতি, ছয় সহসভাপতি এবং ২২ জন পরিচালকসহ মোট ২৯টি পদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৭ জন প্রার্থী। তিনটি প্রধান প্যানেল—আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ, প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ এবং জাগরণ—নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে সভাপতি পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র পরিচালক প্রার্থীও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, রিহ্যাবের বর্তমান পর্ষদ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
নির্বাচনে মুখ্য পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পাঠকের মন্তব্য