![]()
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আলী আফজাল এবং জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক।
শনিবার মধ্যরাতের পর নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রগতিশীল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল ২৩২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সভাপতি ও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী মো. ওয়াহিদুজ্জামান পান ১৯৩ ভোট।
অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে আব্দুর রাজ্জাক ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ২১৪ ভোট পেয়ে মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
এবারের নির্বাচনে ২৯টি পদের বিপরীতে মোট ৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ৬৭৪ জন; এর মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন এবং চট্টগ্রামের ৬১ জন। ভোট দিয়েছেন ঢাকার ৫১২ জন ও চট্টগ্রামের ৫৮ জন ভোটার, মোট ৫৭০ জন।
রিহ্যাবের ইতিহাসে এই প্রথম সভাপতি, ছয় সহসভাপতি এবং ১৯ পরিচালক পদে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দিনব্যাপী এ ভোটগ্রহণ চলে।
তবে সকাল থেকেই নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা ৪০ মিনিট দেরিতে শুরু হয়। একইভাবে বিকাল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা চলে ৪টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্র ও বুথের সামনে বহিরাগতদের অবস্থান, প্রার্থীদের নিয়ম ভেঙে প্রচারণা চালানো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি না থাকাকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কিও হয়।
ভোটগ্রহণ শুরুর পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের বুথের সামনে জড়ো হয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়, যা নির্বাচন বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচিত হয়।
এছাড়া ভোটগ্রহণ শেষে গণনা প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। কোন প্যানেল থেকে কতজন পর্যবেক্ষক থাকবেন—এ নিয়ে মতবিরোধের কারণে ভোট গণনা শুরু করতেও বিলম্ব হয়।
শেষ পর্যন্ত ৫৭০টি ভোট গণনা শেষে মধ্যরাতে ফল ঘোষণা করা হয় এবং নতুন নেতৃত্ব হিসেবে আফজাল-রাজ্জাকের নাম নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া রিহ্যাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পাঠকের মন্তব্য