![]()
অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই বাংলাদেশে গম আমদানিতে সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙেছে। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বেকারি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার ফলে দেশে গমের চাহিদা ও আমদানি উভয়ই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গম আমদানির বর্তমান চিত্র ও সংশ্লিষ্ট খাতের পরিস্থিতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
আমদানির রেকর্ড ও পরিসংখ্যান
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই (জুলাই-মার্চ) গম আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭.৪৩ লাখ টনে, যা গত পুরো অর্থবছরের (৬২.৩৫ লাখ টন) তুলনায় অনেক বেশি।
-
বেসরকারি খাতের আধিপত্য: মোট আমদানির মধ্যে ৬১.৬০ লাখ টনই এসেছে বেসরকারি খাতে, আর সরকারি খাতে আমদানি হয়েছে ৫.৮৩ লাখ টন।
-
ভবিষ্যৎ প্রাক্কলন: অর্থবছরের বাকি তিন মাসে আরও ১০-১৫ লাখ টন গম আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাহিদা বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ
১. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: চালের তুলনায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন অনেক বেশি গমজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছে। বিবিএস-এর তথ্যমতে, গত ৬ বছরে মাথাপিছু গম খাওয়ার হার বেড়েছে প্রায় ১৫.৬৫ শতাংশ।
২. বেকারি ও শিল্প খাতের বিকাশ: নুডলস, বিস্কুট, পাউরুটি ও হিমায়িত খাবারের বাজার এখন প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। প্রাণ-আরএফএল, মেঘনা ও এসিআই-এর মতো বড় বড় শিল্পগ্রুপের বিনিয়োগ বাড়ায় গমের চাহিদা বেড়েছে।
৩. আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে দাম বাড়লেও বর্তমানে তা অনেক কমে এসেছে। ফলে আমদানিকারকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গম সংগ্রহ করছেন।
৪. মৎস্য ও পশুখাদ্য: বাণিজ্যিক মাছ চাষে ব্যবহৃত ফিডে প্রায় ১৮-২২ শতাংশ গম ব্যবহৃত হচ্ছে, যা চাহিদাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
চাল বনাম গমের বাজার বিশ্লেষণ (টিসিবি)
বর্তমানে বাজারে আটা চালের তুলনায় সাশ্রয়ী হওয়াও গমের ব্যবহার বাড়ার একটি বড় কারণ।
| পণ্য | ২০২৩ সালের দাম (টাকা/কেজি) | ২০২৪ সালের দাম (টাকা/কেজি) |
উৎপাদন ও স্থানীয় চাহিদা
দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭০-৮০ লাখ টন। এর বিপরীতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় মাত্র ১০-১২ লাখ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১.১৪ লাখ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেকারি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের এই বৈচিত্র্য এবং সাশ্রয়ী মূল্য ভবিষ্যতে গমের বাজারকে আরও বড় করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আমদানিকারকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ বছর প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আমদানির ফলে রেকর্ডটি আরও বড় দেখাচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য