![]()
ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার জেরে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে মস্কো, বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেলের পাইপলাইন, শোধনাগার ও ডিপোগুলোতে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহেই ক্যাস্পিয়ান সাগর অঞ্চলে দুটি তেল উত্তোলন স্থাপনা এবং রাজধানী মস্কো-এর দুটি পাম্প স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার ফলে রাশিয়া দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির সক্ষমতা হারিয়েছে এবং জ্বালানি খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ কমে গেছে।
এই হামলাগুলোতে ব্যবহৃত দূরপাল্লার ড্রোন রাশিয়ার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ড্রোন উৎপাদনে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থ সহায়তার অভিযোগ তুলে মস্কো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনকে ড্রোন উৎপাদনে সহায়তা করা হলে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং উত্তেজনা বাড়বে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-ও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপ তাদের সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বড় অঙ্কের সহায়তা ঘোষণা করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। জার্মানি প্রায় ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার আওতায় ৫ হাজার মধ্যম পাল্লার ড্রোন তৈরি করা হবে। নরওয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন চুক্তি করেছে এবং প্রায় ৬৬১ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম যৌথভাবে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার বিশাল ভৌগোলিক এলাকা রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েই ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানতে পারছে। ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং জ্বালানি অবকাঠামো এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পাঠকের মন্তব্য