![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই আল জাজিরাকে জানান, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি ইরান দেয়নি।
রেজাই স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা কিংবা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রস্তাবই ইরান মেনে নেবে না। তিনি এটিকে তেহরানের ‘কৌশলগত রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান তাদের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই সব ‘পারমাণবিক ধুলা’ বা ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যাচ্ছে। একই দিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে নিজেদের দেশে নিয়ে আসবে।
তবে ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো পরিস্থিতিতেই এটি অন্য কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।’
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। ট্রাম্পের মতে, ওই হামলার পর অবশিষ্ট উপাদানই ‘পারমাণবিক ধুলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ধারণা করা হয়, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ করা ৯০০ পাউন্ডের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় এই পারমাণবিক কর্মসূচিই সবচেয়ে বড় ইস্যু। ট্রাম্প আগেও বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তারা কেবল শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
পাঠকের মন্তব্য