![]()
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে করহার কমিয়ে করভিত্তি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীতে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তারা বলেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে কর কাঠামোয় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে করহার না বাড়িয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অনানুষ্ঠানিক খাতকে করজালের আওতায় আনার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত কম হওয়ায় সরকারকে ঋণ ও পরোক্ষ করের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংগঠনটি কর ব্যবস্থার অটোমেশন ও সহজীকরণের ওপর জোর দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত ও করজাল সম্প্রসারণের সুপারিশ করে। তারা ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি নন-লিস্টেড কোম্পানির করহারও ২৫ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি মো. কাউসার আলম বলেন, বাজেট ও রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থায় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের টেকসই অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যান্য বক্তারা জানান, দেশের মোট কর আহরণের বড় অংশই ঢাকা থেকে আসে, যা আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলাভিত্তিক ব্যবসা চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত ম্যাপিং প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে এআইভিত্তিক রিস্ক প্রোফাইলিং চালুর মাধ্যমে কর ফাঁকি কমানো এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এবারের বাজেট ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না। বরং ব্যক্তি পর্যায়ে কর না বাড়িয়ে করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি করা হবে। তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি এবং এ জন্য সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস ও ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
পাঠকের মন্তব্য