![]()
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেকে যিশুসদৃশ ‘উদ্ধারকর্তা’ রূপে উপস্থাপন করে একটি এআই-তৈরি ছবি প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তিনি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social থেকে সরিয়ে নেন।
রোববার প্রকাশিত ওই ছবিতে ট্রাম্পকে সাদা পোশাকে একজনের মাথায় হাত রেখে আরোগ্য দানরত ভঙ্গিতে দেখা যায়, যা যিশুখ্রিস্টের প্রচলিত ধর্মীয় চিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ নিয়ে শুধু ধর্মীয় মহল নয়, রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক উপদেষ্টা ব্রাইলিন হলিহ্যান্ড একে ‘জঘন্য ধর্ম অবমাননা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিশ্বাস কখনোই প্রচারণার হাতিয়ার হতে পারে না।
সমালোচনার মুখে ট্রাম্প দাবি করেন, ছবিটি তাকে একজন চিকিৎসক বা মানবিক সহায়তাকর্মী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল এবং ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ এটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এর আগে তিনি পোপ লিওকে অপরাধ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। জবাবে পোপ লিও এই বিতর্কে জড়াতে না চাইলেও শান্তি, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসননীতি, সামরিক অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে ঘিরে ভ্যাটিকান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের আচরণকে ‘অহংকারপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন পোপ যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তখন ট্রাম্প নিজেকে মসীহসদৃশভাবে উপস্থাপন করছেন—যা শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং আত্মকেন্দ্রিক আচরণেরও প্রকাশ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ধর্মীয় ভাষা ও প্রতীকের ব্যবহার বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সংঘাতকে আরও আবেগপ্রবণ ও বিভাজনমূলক করে তুলছে। এর ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ইস্যুগুলো কখনো কখনো বিশ্বাস ও পরিচয়ের প্রশ্নে রূপ নিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য