![]()
ইরান-চীন জোটের লক্ষ্য: বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য ভাঙা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এক মাসের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থির করে রেখেছে। যদিও সম্প্রতি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান জোরদার করছে ইরান ও চীন।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ডলারের আধিপত্যকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। জেপি মর্গানের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই এখনো ডলারে সম্পন্ন হয়, যা ডলারের শক্ত অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইরান। এই কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তেহরান ও বেইজিং ইউয়ানকে বিকল্প মুদ্রা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কিছু জাহাজের কাছ থেকে ইউয়ানে টোল নেওয়ার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়—বরং একটি বড় ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজ করতে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১ সালের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির পর থেকে চীন-ইরান বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, ডলারের আধিপত্য এখনো অটুট। আন্তর্জাতিক রিজার্ভের প্রায় ৫৭ শতাংশই ডলারে, যেখানে ইউয়ানের অংশ মাত্র ২ শতাংশ। এছাড়া ইউয়ানের রূপান্তরযোগ্যতা সীমিত এবং চীনের আর্থিক ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকায় বৈশ্বিক আস্থা এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউয়ানের ব্যবহার বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে ডলারের জায়গা দখল করা সম্ভব নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়তে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান-চীন উদ্যোগ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি নতুন ধারা সূচিত করছে। এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়, বরং ধীরে ধীরে ডলারনির্ভর ব্যবস্থার বিকল্প তৈরির একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া—যার গতি অনেকটাই নির্ভর করবে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
পাঠকের মন্তব্য