![]()
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে সব ফ্রন্টে—লেবাননসহ—যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
শান্তি চুক্তির ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সেখানে চলমান সংকটের একটি চূড়ান্ত কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, “অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে অবিলম্বে সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা এখনই কার্যকর হবে।” তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, ইসলামাবাদ বৈঠক স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলও দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা নিশ্চিত করেছে এবং আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া সংলাপে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, “এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। আমাদের হাত এখনো ট্রিগারে রয়েছে—শত্রুপক্ষের সামান্য ভুলেরও জবাব দেওয়া হবে।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি থেকে সরে এসেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি তিনি গ্রহণ করেছেন। তবে এই চুক্তি কার্যকর রাখতে ইরানকে ‘অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে’ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে বলেও শর্ত জুড়ে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের এই বৈঠকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উপস্থিত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকা জেডি ভ্যান্স সময় অনুযায়ী বৈঠকে যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য