![]()
পাঁচ সপ্তাহ অতিক্রান্ত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখনও থামেনি। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, এই রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপে ‘ঈশ্বরের অনুমোদন’ রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস, ইরান যুদ্ধে আমেরিকার পদক্ষেপগুলো ঈশ্বর সমর্থন করছেন। ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “ঈশ্বর পরম করুণাময় এবং তিনি চান মানুষের মঙ্গল হোক। আমি মনে করি, এই পদক্ষেপও তার ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প বারবার ইরানের বিষয়ে বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। কখনও সরকার পরিবর্তনের কথা বলেছেন, কখনও অন্য অজুহাত দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি ধর্মীয় মোড়ক ব্যবহার করে হামলার পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সোমবার তিনি ইরানের বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়ে বলেন, হামলা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো হবে যাতে দেশটি ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষও সরকারের পতন চায় এবং আমেরিকাকে অনুরোধ করছে যাতে বোমা বর্ষণ বন্ধ না হয়।
ট্রাম্প ঈশ্বরের সরাসরি নির্দেশনা চেয়েছেন কি না সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সহিংসতায় ঈশ্বর ব্যথিত হলেও আমেরিকার পদক্ষেপে তার অনুমোদন রয়েছে। তিনি নিজের শান্তিকামী ভাবমূর্তির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, তার আগে মেয়াদে ‘আটটি যুদ্ধ বন্ধ’ করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দিলেও ট্রাম্প নিয়মিত উপাসনা বা বাইবেল পাঠের দাবি করেন না। তবে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে ধর্মের প্রসঙ্গ বারবার ব্যবহার করছেন, এমনকি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়াকে ঈশ্বরের মহিমার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই যুদ্ধ মূলত খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। ইস্টার সানডের সকালে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “ওপেন দ্য ফাকিং স্ট্রেইট, ইউ ক্রেজি বাস্টার্ডস, অর ইউ উইল বি লিভিং ইন হেল—জাস্ট ওয়াচ! প্রেইজ বি টু আল্লাহ্।”
ধর্মীয় দোহাই দিয়ে যুদ্ধ বাধানো বিষয়টি মুসলিম ও ক্যাথলিক নেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। মিশিগানের ইমামস কাউন্সিলও এই মন্তব্যকে নিন্দা জানিয়েছে। পোপ লিওও সরাসরি ট্রাম্পকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার ইরানের পাহাড়ি এলাকা থেকে এক মার্কিন সেনা উদ্ধারকে ট্রাম্প ‘ঈশ্বরের দৃষ্টির কৃতিত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথও উদ্ধার অভিযান বর্ণনা করতে গিয়ে যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সংক্ষেপে, ট্রাম্প যুদ্ধকে ধর্মীয় অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত করে আরও আগ্রাসন চালানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড় তুলেছে।
পাঠকের মন্তব্য