![]()
প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ জেফ্রি স্যাক্স মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত ইরানবিরোধী যুদ্ধ থামাতে বিশ্বের মাত্র তিনটি শক্তি কার্যকরভাবে ও একযোগে ভূমিকা রাখতে পারে—চীন, রাশিয়া এবং ভারত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত মোকাবিলায় “প্রাপ্তবয়স্ক নেতৃত্ব” প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। রাশিয়াভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আরটি-এর ‘নিউ অর্ডার’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক আফসিন রতানসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিশ্বে কেবল তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নেতা আছেন যারা এই সংকট থামাতে সক্ষম, এবং তাদের একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে।”
স্যাক্সের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি যোগ করেন, এই দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছে বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ এখনও “খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মানসিকতায়” বিশ্বাস করে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি জানান, “এ কাজ কেবল ব্রিকস দেশগুলোই করতে পারে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে সতর্ক করে স্যাক্স বলেন, “ভারত একটি বড় দেশ ও সম্ভাব্য সুপারপাওয়ার হিসেবে এমন দেশের সঙ্গে অবস্থান নিতে পারবে না, যারা গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে। এটি কোনো বন্ধুত্ব বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নয়, ভারতের স্বার্থের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
স্যাক্সের মতে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত “ভ্রান্ত ধারণা” প্রত্যাখ্যান করার সক্ষমতা রাখে, তবে এটি এককভাবে নয়, বরং রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল ও অন্যান্য ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে করা উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিকসে ভারতের সভাপতিত্ব দেশটিকে এই সংকটে মধ্যস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে। এছাড়া, ভারতের ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে আহ্বান জানান, ভারত যেন “নির্ভরশীল রাষ্ট্রের মতো একই অবস্থান পুনরাবৃত্তি না করে।”
পাঠকের মন্তব্য