![]()
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি এক বেনামি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
ফারস নিউজের ওই সূত্র জানায়, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন থেকে তেহরানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানই নাকি যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে ইরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগও ভেস্তে গেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরান আলোচনার জন্য নিজেদের পক্ষ থেকে দুটি শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের ফলে ইরানের স্কুল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আরও জানা গেছে, কাতারও এই ইস্যুতে মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখায়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলো কাতারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে, তবুও দেশটি এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে তুরস্ক ও মিসর আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও কামিকাজে ড্রোনের প্রায় অর্ধেক এখনো সক্রিয় আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের সেই দাবির বিপরীত, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি মার্কিন ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিমানে থাকা দুইজন ক্রুর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
একই দিনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘এ-১০ ওর্থহগ’ মডেলের আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ওই বিমানের পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য