![]()
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪১ ডলার দরে ১ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক অবস্থানের কারণেই এই ক্রয়প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে তেল আমদানির বিষয়ে মতামত দিচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ছাড়াই বাংলাদেশ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে।
এই প্রেক্ষাপটে ExxonMobil-এর কাজাখস্তান কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির কিছু প্রকল্পে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তবুও তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালার মধ্যে থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, সরকার আরও দুটি জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল এবং মালয়েশিয়া থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির সিদ্ধান্ত রয়েছে।
তবে সব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পারফরম্যান্স গ্যারান্টি নিশ্চিত না হলে এলসি খোলা হবে না।
জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে নতুন উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরবরাহকারী অন্তর্ভুক্ত করতে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে Saudi Aramco এবং Abu Dhabi National Oil Company-ই প্রধান সরবরাহকারী।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজেলের দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে।
পাঠকের মন্তব্য