![]()
যুদ্ধ মানেই অনিশ্চয়তা, ক্ষয়ক্ষতি আর সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর অস্থিরতা। সেই বাস্তবতার মাঝেই কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিলেন Marco Rubio। তিনি জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) G7 দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে France-এ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে—এবং সেটিও স্থলবাহিনী মোতায়েন ছাড়াই।
তার ভাষায়, “আমরা সময়সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে, এমনকি তার থেকেও এগিয়ে আছি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হবে।”
এই বক্তব্যে একদিকে যেমন কৌশলগত আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য এটি একটি সম্ভাব্য স্বস্তির বার্তা। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মানেই আরও প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছে, রুবিও তার জি৭ মিত্রদের কাছে উল্লেখ করেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথভাবে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তা আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
তবে যুদ্ধ শেষ হলেও চ্যালেঞ্জ শেষ হবে না। বিশেষ করে Strait of Hormuz—এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রুবিও আরও জানান, Iran ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করেছে এবং কিছু বিষয়ে আলোচনার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়—একদিকে সামরিক চাপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখা।
যুদ্ধের ময়দানে কৌশলগত অগ্রগতি যতই হোক, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়—এই সংঘাতের শেষটা কি সত্যিই শান্তি বয়ে আনবে, নাকি নতুন কোনো অস্থিরতার জন্ম দেবে?
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের চোখ এখন সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে।
পাঠকের মন্তব্য