![]()
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার প্রতীক। প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি ও পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু চলমান সংঘাত এই প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে—যার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে—তারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে “যথাযথ প্রচেষ্টা” চালাবে।
এই বিবৃতিতে সরাসরি ইরান-এর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন পাতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে কিয়ের স্টারমার-এর দপ্তর। এতে নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল একটি মৌলিক অধিকার। এই নীতির ওপর আঘাত মানে বিশ্ব অর্থনীতির শিরায় আঘাত করা।
বর্তমান সংঘাত ইতোমধ্যে ২০ দিনে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ২৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ—যার মধ্যে অন্তত ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার—হামলার শিকার হয়েছে বা বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়েছে। ফলে কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে হরমুজ প্রণালি।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারণ তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ন্যাটো জোটকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো আপাতত সরাসরি সামরিক বা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সাড়া দেয়নি। তারা কূটনৈতিক আলোচনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ বিবৃতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল, অন্যদিকে এটি একটি সতর্ক সংকেত—যে কোনো বড় ধরনের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে।
সবশেষে, এই সংকট আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটি সরু জলপথ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে পুরো বিশ্বের জন্য। হরমুজ প্রণালি শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, এটি আজ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে সামান্য অস্থিরতাও কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য