
ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করে জাতিসংঘ মহাসচিবকে একটি বিস্তারিত চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি। ইরানের নূর নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে তিনি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একটি ‘অন্যায় ও বেআইনি কাজ’। তার মতে, এই ঘটনার ফলে ইরানের ওপর যে বস্তুগত ক্ষতি ও নৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর বর্তায় এবং এর জন্য তাদের আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা উচিত।
চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বিপজ্জনক। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলা বা গুপ্তহত্যার মতো ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পরিষদের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে উৎসাহিত করতে পারে। তার মতে, যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠতে পারে এবং তা অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
এছাড়া, চিঠিতে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশ ক্ষতির মুখে পড়ছে। ইরানের দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ের শাসন নিশ্চিত করা হয়।