
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি: বাস না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে বাড়ি ফেরা, আদায় হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া
ঈদকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। টাঙ্গাইলে কর্মরত বগুড়ার আফজাল হোসেন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে করে বাড়ির পথে রওনা দেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস না পেয়ে তিনি বাধ্য হন এই সিদ্ধান্ত নিতে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বাসে ৩৫০-৪০০ টাকায় যাওয়া গেলেও, ঈদকে কেন্দ্র করে খোলা ট্রাকেই তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা ভাড়া।
আফজাল হোসেনের মতো অসংখ্য মানুষ একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি ফিরছেন, তাও আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য ঈদে বাড়ি যাওয়া-আসা এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
মহাসড়কের নগরজালফৈ, রাবনা ও এলেঙ্গা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই আধা ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাচ্ছেন না। আর যেসব যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে গুনতে হচ্ছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া।
কুড়িগ্রামের রফিক মিয়া জানান, দিনমজুরের কাজ শেষে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ফাঁকা বাস পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাত্রা করতে হচ্ছে।
নাটোরগামী আলেয়া বেগম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি বাসে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও নেই। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে যমুনা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলেও চাপ অনেক বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৭ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার করেছে, যা থেকে কয়েক কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। যদিও কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি, তবে মাঝে মধ্যে যানবাহন বিকল হওয়ায় গতি ধীর হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি।
সব মিলিয়ে, ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য