![]()
সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা ঋণ খেলাপীদের তালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব ব্যাংকিং খাতে জমা থাকা খেলাপী ঋণ ফেরত আনার জন্য উঠেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এই ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তারা আরও প্রস্তাব দেন, ঋণ খেলাপীদের সামাজিক ক্ষেত্রে বর্জন করা হোক এবং তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে চাপ অনুভব করুক।
গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবসমূহ
১. ঋণ খেলাপীদের ভিআইপি বা সিআইপি মর্যাদা না দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা সীমিত করা।
২. নতুন বাড়ি বা গাড়ি কেনার আগে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট স্ট্যাটাস যাচাই করা।
৩. দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে stricter মূল্যায়ন এবং ব্যাংকভিত্তিক নয়, শাখাভিত্তিক এডি অনুপাত প্রয়োগ।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুমোদিত সম্পত্তি মূল্যায়ন সংস্থার তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
৫. ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা প্রতিদিন ঋণ মঞ্জুরি ও পুনঃপ্রাপ্তি পরিস্থিতি মনিটর করবে এবং প্রক্রিয়াটি অনলাইনে পরিচালনা করবে।
খেলাপী ঋণের কারণ ও সমাধান
ঋণ খেলাপের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: যথাযথ উদ্যোক্তা নির্বাচন না করা, প্রয়োজনের বেশি ঋণ প্রদান, চাপের মধ্যে ঋণ দেওয়া, বন্ধক সম্পত্তির অতিমূল্যায়ন, জাল কাগজপত্র গ্রহণ এবং ঋণগ্রহীতাদের তহবিল অপব্যবহার।
এছাড়া ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপীর প্রবণতা’, পর্যাপ্ত কার্যকরী মূলধনের অভাব এবং ঋণ পরিশোধে অনিচ্ছাও ডিফল্ট ঋণের অন্যতম কারণ।
সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ঋণ প্রদান সীমিত করা, উপযুক্ত ক্লায়েন্ট নির্বাচন, ঋণ ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন এবং যথাযথ বন্ধক সম্পত্তি গ্রহণ।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩১ শতাংশ, যা মোট ১৮,২১০ কোটি টাকার মধ্যে ৫,৫৭৭ কোটি টাকা। গ্রামীণ এলাকায় কিছু ব্যাংকের শাখায় এডি অনুপাত ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যেখানে অনুমোদিত সীমা মাত্র ৮৩ শতাংশ।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা এটিও উল্লেখ করেছেন যে, প্রকল্প ঋণ প্রদানের সময় বন্ধক সম্পত্তির যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়াই খেলাপী ঋণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।
পাঠকের মন্তব্য