![]()
পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটির দিনেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে পৌঁছান। সেখানে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
জানা গেছে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। দেশের চলমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য আধুনিক ভ্যাকুয়াম প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পৃথক বৈঠক করবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সার, বীজ, কীটনাশক এবং আর্থিক সহায়তা যেন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নয় বরং সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে যায়—এই লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সরকারের প্রস্তুতি।
উল্লেখ্য, আজ পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) নির্বাহী আদেশে আরও একটি সরকারি ছুটি রয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা সাত দিনের ছুটি।
তবে ছুটির এই আমেজের মধ্যেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিজে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি ও আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য