![]()
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বের হয়ে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিশেষ কেবিনে স্থান দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং সাম্প্রতিক উপসর্গের কারণে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি বলেন—
“ম্যাডামের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী বেশ কিছু জরুরি পরীক্ষা প্রয়োজন। সেই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বোর্ড পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে খালেদা জিয়া হাসপাতালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল টেস্টের মধ্য দিয়ে যাবেন। সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে রাতেই হাসপাতালে ভিড় না করে বাড়িতে অবস্থান করে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে।
খালেদা জিয়া ১৫ অক্টোবর শেষবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিন অবস্থান করে বিভিন্ন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে বাসায় ফেরেন।
তবে চলমান অসুস্থতার কারণে তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে চিকিৎসকেরা আগেই পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বহুবছরের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত কয়েক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, ফুসফুসে সমস্যা, চোখের দুর্বলতা, এবং সামগ্রিকভাবে দুর্বল ইমিউন সিস্টেমসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন।
তার এই দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ এখন তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবার ও দলের উদ্বেগ, জনগণের প্রার্থনা
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, রাজনৈতিক দল এবং সমর্থকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ে। বিএনপি নেতারা জানান, তারা তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত এবং চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করছেন।
অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন—খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড দিন-রাত কাজ করছে। সব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর অবস্থা মূল্যায়ন করে বোর্ড চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে।
পাঠকের মন্তব্য