![]()
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার একটি একতলা ভবনের ছাদ ধসে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছেন। একই ঘটনায় আরও ৫৯ জন ব্যক্তি সামান্য আঘাত, অজ্ঞানতা বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গুরুতর আহত তিনজন হলেন: ওই বাড়ির বাসিন্দা মো. দেলোয়ার (৩৭) এবং তাঁর দুই সন্তান তাসফিয়া (১৭) ও মো. ওমর (৯)। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় পার্শ্ববর্তী একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণসামগ্রী ছিটকে পড়ে একতলা ভবনটির কিছু অংশ ধসে যায়। দেলোয়ার ও তাঁর সন্তানরা তখন ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন, এসময় মাথায় সরাসরি ধাক্কা লেগে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, বাবা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও ৪৬ জন ভূমিকম্পের সময় দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সময় বিভিন্নভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ অজ্ঞান হয়েছেন, কেউ প্যানিক অ্যাটাকের কারণে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ. এন. এম. মিজানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে আহত ১৩ জনকে আমরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়েছি, তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
ভূমিকম্পের তথ্য
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এর মাত্রা ৫.৭ রিখটার স্কেল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলেছে, তীব্রতা ছিল ৫.৫।
ভূমিকম্পের সময় পার্শ্ববর্তী বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা দুলতে শুরু করে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাইরে বের হন। নরসিংদীর বিভিন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্পের সময় তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। কেউ ঘরের ফ্লোর ফেটে যাওয়ার ছবি দিয়েছেন, কেউ আসবাবপত্র ছিটকে ছিটকে থাকার দৃশ্য প্রকাশ করেছেন।
পলাশের ঘোড়াশাল পৌরসভার ঈদগাহ রোডের মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক সালাউদ্দিন আনসারী জানিয়েছেন, তাদের ছয়তলা ভবনের চার থেকে পাঁচটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সবাই আতঙ্কিত।
নরসিংদী শহরের মধ্যকান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা পূনম সাহা বলেন, “এভাবে ভবন দুলতে আগে কখনো দেখিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দৌড়ে নিচে নেমেছি।”
পাঠকের মন্তব্য