![]()
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের আলোচনা শুরু হলেও তারা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা সাহস দেখাতে পারেনি। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, “আমরাই বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলাম, খসড়াও তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তখনকার সরকার তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা আমাকে বলেছিলেন—‘তোমার যা স্বপ্ন আছে, এবার টেবিলে প্রকাশ করো।’ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে গত বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বৈষম্যবিরোধী চেতনা উন্মোচিত হয়েছে, তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। এটি শুধুমাত্র কোটা আন্দোলন নয়, বরং একটি সমগ্র বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এখনই সময় সেই চেতনাকে আইনি কাঠামোয় রূপ দিতে।”
তিনি সংলাপে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিশেষ জোর দেন—বিচার, নির্বাচন এবং সংস্কার। তিনি বলেন, “ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হলে নাগরিকের সুরক্ষা দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, তবেই মানুষ অংশগ্রহণ করবে। তৃতীয়ত, কার্যকর সংস্কার। নাগরিককে সর্বজনীন অধিকার না দিলে কিছু জায়গায় বৈষম্য রেখে সংস্কার করা সম্ভব নয়। এই সংলাপ সম্পূর্ণভাবে সর্বজনীন মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে হয়েছে।”
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বৈষম্য শুরু হয়েছে ধর্মভিত্তিক বিভাজন—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে। এরপর রাজনৈতিক বৈষম্য যুক্ত হয়েছে। গ্রাম-গঞ্জে রাজনৈতিক সৌন্দর্য বিভাজন ও বিবাদে পরিণত হয়েছে। সমাজের বৈষম্য দূর করতে আইন অপরিহার্য। আগামী নির্বাচনের আগে সরকারের প্রতি অধ্যাদেশ তৈরি করার চাপ দেয়া যেতে পারে। নাগরিকরা বলুন—এ অধ্যাদেশ না হলে আমরা ভোটে অংশ নেব না। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আইনের কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।”
সংলাপে মূল উপস্থাপনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আরিফ খান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি. রহমান, আদিবাসী মানবাধিকার কর্মী রানী ইয়ান ইয়ান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ড্রাগান পোপোভিচ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ইউনিভার্সিটি অফ আলস্টার ড. এস আর ওসমানী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আদিবাসী, শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ও উর্দুভাষীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।
পাঠকের মন্তব্য