অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পলাতক আসামিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিষিদ্ধ করার বিধানসহ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয় বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, এই খসড়া আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
এই খসড়া অনুমোদনের আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ঢাকার তেজগাঁওয়ে উপদেষ্টা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সেখানে চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে—
-
বাংলাদেশ শ্রম আইন এমেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স
-
আরপিও (রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অর্ডার)
নীতিগতভাবে অনুমোদন পাওয়া আইনের মধ্যে রয়েছে—
-
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন
-
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন
-
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন
আরপিও খসড়ার মূল বৈশিষ্ট্য
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন—
“আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে ইভিএম সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না—এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”
তাছাড়া, জেলা পর্যায়ের ইলেকশন অফিসগুলো ডিসট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এছাড়া প্রার্থীদের সকল দেশি ও বিদেশি আয়, সম্পত্তির বিবরণ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে, যা পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা
-
জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
-
নির্বাচনী জোটের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে, যাতে ভোটাররা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।
-
নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
-
প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে।
ভোট গণনা ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি
ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
আগে কোনো ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল হতো, কিন্তু নতুন খসড়ায় নির্বাচন কমিশন চাইলে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোট বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে।
উপসংহার
এই খসড়া আইন সংশোধনের লক্ষ্য—
-
পলাতক ও অপরাধী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা,
-
নির্বাচনকে স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও নিরাপদ করা,
-
এবং ভোটারদের অধিকার ও তথ্যপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচনের সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং রাজনৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্ব থেকে জনগণকে রক্ষা করবে।
পাঠকের মন্তব্য