![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি অক্টোবর মাসে এ জলপথে জাহাজে হামলার ঘটনা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’-এর সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য চলতি মাসটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য বলছে, অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২৮টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে এ প্রণালিতে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩টিতে। ধারাবাহিক এসব হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) নথিভুক্ত পরিসংখ্যানের সঙ্গেও রয়টার্স ও ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের তথ্যের মিল রয়েছে। আইএমও জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মোট ১২০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে হামলার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ‘যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩৫টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সব হামলার তথ্য প্রতিবেদন পর্যন্ত নাও পৌঁছাতে পারে। সে কারণে প্রকৃত হামলার সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে আইএমওর তথ্য ব্যবহার করে দেখা গেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বের ৯০০টিরও বেশি সুপারট্যাঙ্কারের বহরের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে এসব ট্যাঙ্কারের ভূমিকা থাকায় হামলার ঘটনাগুলো সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চলতি মাসে হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সংঘাতের প্রভাবে এই জলপথে নৌ চলাচলের ঝুঁকি আরও সামনে এসেছে।
বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে হামলার মোট সংখ্যা এক না হলেও, সব তথ্যেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে হামলার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য