![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতালির সিসিলি দ্বীপের উপকূলে একের পর এক ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পরপর ১২টি মাঝারি ও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সুনামির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পালেরমো ও মেসিনা শহরের স্কুল এবং সরকারি ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ের পাশাপাশি আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিনের কম্পনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ০। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি কম্পন আঘাত হানে। সব মিলিয়ে শুক্রবার অন্তত ৩ মাত্রার আরও ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর উপকেন্দ্র ছিল এওলিয়ান দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পশ্চিমে দক্ষিণ টিরেনিয়ান সাগরে। পরপর এসব কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়। এর পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সুনামির কমলা সতর্কতা জারির পর পালেরমো ও মেসিনা শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবন ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুল ও সরকারি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভূমিকম্পে ভবনগুলোর কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে বিভিন্ন স্থাপনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো সময় আরও আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরপর একাধিক কম্পনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের নিরাপত্তা এবং নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাই এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমধ্যসাগরের তলদেশে ইউরেশিয়ান প্লেটের ওপর আফ্রিকান টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত চাপ সিসিলির আশপাশে ঘন ঘন ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ। দুটি প্লেটের পারস্পরিক চাপের ফলে এ অঞ্চলে ভূকম্পন সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
ইতালীয় ভূকম্পনবিদ নিকোলা আলেসান্দ্রো পিনো জানান, ইউরেশিয়ান প্লেটের ওপর আফ্রিকান প্লেটের চাপের কারণে পরিচিত এই ভূকম্পন অঞ্চলটি নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সিসিলি উপকূলে ধারাবাহিক কম্পনের পর সুনামির সতর্কতা, ভবন খালি করা এবং স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা যাচাই—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আরও পরাঘাতের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সাবধান থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য