
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবে নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাতের খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাজার শুরুর পর বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৬২ ডলার বা ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ১৫ ডলার বা ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়।
তেলের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
রোববার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বাড়িঘর ও একটি মসজিদের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ওই হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হুথিরা সৌদির পাশের একটি প্রদেশে দেশটির একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজটিতে আগুন লাগার পর এর ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ থাকাও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে ইরাক থেকে পরিচালিত একটি ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের দামে।
বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর সতর্ক করে বলেছেন, ওমানে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় কার্যকর কোনো সমাধান না এলে অথবা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
তার মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মার্চের শুরুতে দেখা ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক উদ্যোগও ধাক্কা খেয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি রোববার জানিয়েছেন, সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির যেকোনো অবনতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন যুক্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, সৌদি আরবের পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ওপরই এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে।
পাঠকের মন্তব্য