
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
টানা দরপতনের ধাক্কা সামলে দেশের শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)—অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। একই সঙ্গে উভয় বাজারেই মূল্যসূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এর ফলে সাম্প্রতিক কয়েক কার্যদিবসের নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আগের কার্যদিবসে বাজারে দরপতনের চাপ থাকলেও মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যায়।
সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা
মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচকসহ অন্যান্য সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা তৈরি হয়েছিল। সোমবারও ডিএসই ও সিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমার পাশাপাশি মূল্যসূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল।
তবে মঙ্গলবারের লেনদেনে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে ক্রয়চাপ বাড়ায় সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
লেনদেনে বাড়তি গতি
ডিএসইতে মঙ্গলবার টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়াকে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫৯৬ কোটি টাকা হয়েছে বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। সেদিন প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে নেমে যায়। একই দিনে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচকও কমেছিল।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি
দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে দরপতন চলায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ডিএসইর সূচকে ধারাবাহিক চাপও লক্ষ্য করা যায়। ফলে মঙ্গলবারের উত্থান বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়েছে।
তবে এক দিনের উত্থানকে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের লেনদেনে দেশের দুই শেয়ারবাজারেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সূচক, লেনদেন এবং অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের ধারাবাহিকতায় কিছুটা বিরতি এসেছে। এখন এই ইতিবাচক ধারা পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।
পাঠকের মন্তব্য