
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
উড্ডয়নের মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই পাইলট। ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন প্রশিক্ষণার্থী এবং অন্যজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কানপুরের গার্গ এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে চার আসনের বিমানটি উড্ডয়ন করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উড্ডয়নের পর প্রায় ২০ মিনিটের মাথায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফেরার সময় গঙ্গার তীরবর্তী একটি মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার সদস্যরা। তারা ঘটনাস্থল ঘিরে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন।
নিহত দুই পাইলট
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত দুই পাইলট হলেন গুজরাটের শচীন ভাটিয়া ও কর্ণাটকের অভিষেক পূজারি। তাদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষণার্থী এবং অন্যজন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত প্রশিক্ষকের প্রায় ৩ হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তারা বিমানটি নিয়ে উড্ডয়ন করেছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
কানপুর নগরের পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। একই সঙ্গে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হবে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত বিমান
দুর্ঘটনাস্থলের বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা গেছে, ঘাস ও গাছপালায় ঘেরা একটি মাঠে বিমানটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ধাতব অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। বিমানের ডানা ও সাদা রঙের বিভিন্ন প্যানেলও ঘটনাস্থলের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে বিমানটির শেষ মুহূর্তের গতিবিধি এবং দুর্ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্রশিক্ষণ বিমানটি ২০২৩ সালে গার্গ এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। বিমানটির কারিগরি অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
শোক মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের
এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
শোকবার্তায় তিনি নিহতদের স্বজনদের এই কঠিন সময়ে শক্তি জোগানোর জন্য প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকেও নজর রয়েছে।
উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গার্গ এভিয়েশন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।
পাঠকের মন্তব্য