
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করেছে। তবে ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন হলেও গ্রাহকদের সিম, মোবাইল নম্বর, সেবা, প্যাকেজ কিংবা ব্যালান্সে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। ‘আসল সংযোগ, সবসময় সচল’—এই ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল জীবনধারা, গেমিং, বিনোদন ও কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য জানিয়েছে ‘সার্কেল’।
নতুন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও সাশ্রয়ী, আধুনিক ও গতিশীল সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রবির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
বদলাবে না ০১৬ নম্বর ও সেবা
এয়ারটেল থেকে সার্কেলে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান গ্রাহকদের কোনো ধরনের বাড়তি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কেলের গ্রাহকে পরিণত হবেন।
গ্রাহকদের বিদ্যমান ‘০১৬’ নম্বর আগের মতোই চালু থাকবে। একই সঙ্গে তাদের বর্তমান সেবা, প্যাকেজ ও ব্যালান্সও বহাল থাকবে। ফলে নতুন ব্র্যান্ড চালু হলেও গ্রাহকদের সিম পরিবর্তন বা নতুন নম্বর নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
এ ছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, লেনদেন এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যও নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
‘ওয়ারিদ’ থেকে এয়ারটেল, এবার সার্কেল
বাংলাদেশে এ ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ওয়ারিদ’ নামে। ২০০৭ সালের ১০ মে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে মোবাইল অপারেটরটি।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে ভারতীয় মোবাইল অপারেটর এয়ারটেল ওয়ারিদের সিংহভাগ শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘এয়ারটেল বাংলাদেশ’ করা হয়।
২০১৬ সালে এয়ারটেলকে রবি আজিয়াটা পিএলসির সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশে রবি ও এয়ারটেল—দুটি পৃথক ব্র্যান্ড হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবার সেই এয়ারটেল ব্র্যান্ডই নতুন পরিচয় নিয়ে ‘সার্কেল’ হিসেবে যাত্রা শুরু করল।
তরুণদের কেন্দ্র করে নতুন ব্র্যান্ড
অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সার্কেল সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপ।
তিনি বলেন, ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন হলেও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, বরং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তোলাই নতুন ব্র্যান্ডের অন্যতম লক্ষ্য।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, এয়ারটেল দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রজন্মের কাছে আবেগের জায়গা তৈরি করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে প্রজন্মের পরিবর্তন হয়েছে এবং মানুষের যোগাযোগের ধরনও বদলেছে। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সার্কেলকে আরও প্রাসঙ্গিক, গতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল জীবনধারায় গুরুত্ব
রবি আজিয়াটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানুষের যোগাযোগের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন মানুষ শুধু কথা বলা বা বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গেমিং, ভিডিও, বিনোদন, কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন কমিউনিটি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তিত চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে সার্কেলকে তৈরি করা হয়েছে। ব্র্যান্ডটির লক্ষ্য হলো মানুষকে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিউনিটি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং অর্থবহ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করা।
এয়ারটেলের তারুণ্যকেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল সক্ষমতা, আধুনিক সেবা এবং ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সার্কেলের।
গ্রাহকদের জন্য নতুন অফারের প্রত্যাশা
এয়ারটেলের গ্রাহকদের সিম পরিবর্তন করতে হবে না জানিয়ে সার্কেলের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড ডিজিটাল তাহসিনা রাফা বলেন, বাংলাদেশে রবির দুটি ব্র্যান্ডের একটি ছিল এয়ারটেল, যা মূলত তরুণদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। এখন সেই ব্র্যান্ডকেই নতুন পরিচয় দেওয়া হচ্ছে সার্কেল নামে।
তিনি জানান, নতুন ব্র্যান্ডের অধীনে গ্রাহকরা বাজারের প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন অফার পাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ‘সংযোগ যাত্রার অনুপ্রেরণা জোগায়’—এই ধারণাকে সামনে রেখে সার্কেল বাংলাদেশের ডিজিটালনির্ভর প্রজন্মের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।
তরুণদের নিজেদের পছন্দের মানুষ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতার অংশ হওয়া এবং নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করাই হবে নতুন ব্র্যান্ডটির অন্যতম লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে এয়ারটেলের নাম পরিবর্তন হলেও গ্রাহকদের দৈনন্দিন মোবাইল সেবায় তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। বরং বিদ্যমান সংযোগ ও সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে নতুন পরিচয়ে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ‘সার্কেল’।
পাঠকের মন্তব্য