![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও আইনি হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের ৩৯টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৫০ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা। পাশাপাশি শারীরিক হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা এবং আইনি হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রায় ৯১ দশমিক ৪ শতাংশই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে, যা মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (মিড) প্রকাশিত জুলাই মাসের সাংবাদিক নির্যাতন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে সংঘটিত ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৯টি প্রাণনাশের হুমকির, যা মোট ঘটনার প্রায় ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া ১১টি শারীরিক হামলার ঘটনা, ৬টি আইনি হয়রানি বা মামলা এবং ৩টি গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
মিড জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। একই সঙ্গে শারীরিক হামলা, মিথ্যা মামলা ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার মাধ্যমে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রবণতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ৩২টি ঘটেছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে, আর রাজধানী ও মহানগর এলাকায় ঘটেছে মাত্র সাতটি। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, ভূমিদস্যু, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ, রাজনৈতিক সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিশোধ নেওয়াকে এসব হামলার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মিড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতনের ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৮টিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও মামলা হয়েছে মাত্র পাঁচটিতে। অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র দুইজন। ফলে অধিকাংশ ঘটনায় বিচারিক অগ্রগতি না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মিডের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল হাসান বলেন, মফস্বলের সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সংবাদকর্মীরা ভয়ভীতি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
পাঠকের মন্তব্য