ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; পুরো শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবের পরিবেশ। গেমস উপলক্ষে গ্লাসগোকে সাজানো হয়েছে এমনভাবে, যাতে খেলার টিকিট না থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকরা নানা সাংস্কৃতিক, বিনোদনমূলক এবং সামাজিক আয়োজনে অংশ নিয়ে উপভোগ করতে পারেন আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া উৎসবের আবহ।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে ‘গ্লাসগো ২০২৬ ফেস্টিভ্যাল’, যা টানা ১১ দিন ধরে চলবে। এই উৎসবে স্কটল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, লোকসংগীত, শিল্পকলা, স্থানীয় খাবার, উন্মুক্ত কনসার্ট, স্ট্রিট পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ফলে গ্লাসগো শহর পরিণত হয়েছে এক বিশাল উৎসবের মঞ্চে।
গেমস চলাকালে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তৈরি করা হয়েছে ফেস্টিভ্যাল জোন। এসব এলাকায় বড় পর্দায় সরাসরি খেলা দেখার পাশাপাশি স্থানীয় খাবার, পানীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করার সুযোগ থাকছে। পরিবার, শিশু এবং পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে বিনোদনের নানা আয়োজনও রাখা হয়েছে।
শহরের ঐতিহাসিক স্থান, নদীতীর, উন্মুক্ত সড়ক এবং শিল্পাঞ্চলগুলোও নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল ও শিল্পকর্ম। কিংসটন ব্রিজের নিচের ইয়ার্ডওয়ার্কস আর্ট ইনস্টলেশন এবং কুইন্স ডকের আলোকসজ্জা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গ্লাসগো স্কুল অব আর্টসহ বিভিন্ন গ্যালারিতে চলছে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাস, স্কটিশ সংস্কৃতি ও শিল্প ঐতিহ্যভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে শহরজুড়ে স্থানীয়দের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো।
২০১৪ সালের কমনওয়েলথ গেমসের জনপ্রিয় মাসকট ‘ক্লাইড’ এবারও নতুনভাবে ফিরে এসেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মাসকটটির ফাইবারগ্লাস ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা পর্যটকদের ছবি তোলার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
শুধু বড়দের জন্য নয়, শিশুদের জন্যও আয়োজন করা হয়েছে ‘মিনি কমনওয়েলথ গেমস’। বিভিন্ন পার্ক, জাদুঘর ও উন্মুক্ত স্থানে ছোটদের জন্য ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবারগুলোর কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
এবারের গেমস আয়োজনেও রয়েছে ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মাত্র ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বাজেটে গ্লাসগো এই আন্তর্জাতিক আসরের দায়িত্ব নেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আয়োজনের জন্য কোনো অতিরিক্ত সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়নি।
ব্যয় কমাতে এবার গেমসে খেলার সংখ্যা ১০টিতে সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন, স্কোয়াশ ও রাগবির মতো কয়েকটি জনপ্রিয় ইভেন্ট বাদ পড়েছে। একই সঙ্গে আলাদা অ্যাথলেট ভিলেজ নির্মাণ না করে প্রতিযোগীদের ভেন্যুর কাছাকাছি আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, গেমস উপলক্ষে স্কটল্যান্ডজুড়ে শুরু হয়েছে ‘অল ইন’ নামে একটি সামাজিক কর্মসূচি। স্কুল, ক্রীড়া ক্লাব ও স্থানীয় কমিউনিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় উৎসব, পারিবারিক আয়োজন এবং নাগরিক সম্পৃক্ততার নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ শুধু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি গ্লাসগোর সংস্কৃতি, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুনভাবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। একই সঙ্গে ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এবারের আসর গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য