
ইবি রিপোর্ট
বৈশ্বিক মঞ্চে স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালো বাংলাদেশ। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ ‘TIME 100/AI’ সংস্করণে স্থান করে নিয়েছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার ম্যাগাজিনটিতে হাসপাতালটিকে নিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার আগামী প্রজন্মের রূপকার শিরোনামে একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল বিশ্বমঞ্চে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করলো। চিকিৎসা ও হাসপাতাল সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশের অগ্রগামী ও নেতৃত্বদানকারী ভূমিকাকেই সম্মানিত করেছে আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি।
ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল প্রযুক্তি ও মানবিক সেবার মেলবন্ধনে দেশের চিকিৎসা খাতকে এক নতুন যুগে নিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ও আধুনিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে ক্যানসার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বৈশ্বিক এই স্বীকৃতি কেবল ল্যাবএইডের একার নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা এবং এআই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিকিৎসার এক গৌরবময় মাইলফলক। ]
ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় এত দিন বাংলাদেশের রোগীদের বড় বাস্তবতা ছিল বিদেশমুখিতা। জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ভারত, সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ডে যাওয়ার কথা ভাবতে হতো অনেক পরিবারকে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যুক্ত হতো ভ্রমণ, সময় ও ব্যয়ের চাপ। সেই বাস্তবতার পরিবর্তনে বাংলাদেশেই উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীমের নেতৃত্বে প্রিসিশন মেডিসিন, আধুনিক রেডিওথেরাপি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা তথ্য এবং ডিজিটাল সংযোগকে এক কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল ভাবনা হলো ক্যান্সার চিকিৎসাকে কেবল প্রচলিত কেমোথেরাপি বা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রোগীর জন্য আরও ব্যক্তি-নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরি করা। ল্যাবএইডের বর্তমান অবকাঠামোয় মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস, জীববৈজ্ঞানিক চিকিৎসার উপযোগী ব্যবস্থা, বিশেষায়িত অনকোলজি ফার্মেসি এবং কোল্ড-চেইন সক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসা নতুন ধরনের ভ্যাকসিন ও ইমিউনোথেরাপির দিকে এগোচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাকিফ শামীম ‘এন্ট্রাপ্রেনার বাংলাদেশ’কে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দেশের সীমানার মধ্যেই বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বাংলাদেশকে শুধু জটিল রোগের দেশীয় চিকিৎসার জায়গা হিসেবে নয়, উন্নত ক্যান্সারসেবা ও ক্লিনিক্যাল উদ্ভাবনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ল্যাবএইড নিজেদের জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রিসিশন মেডিসিনের একটি উন্নত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
প্রিসিশন অনকোলজির ক্ষেত্রে ল্যাবএইড ইতিমধ্যে জিনোমিক-নির্দেশিত চিকিৎসা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। রোগীর শরীরে ক্যান্সারের আচরণ ও চিকিৎসায় সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য লিকুইড বায়োপসি এবং বহুবিষয়ক টিউমার বোর্ড ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসা শুরুর আগে শুধু রোগ শনাক্ত করাই নয়, রোগটি কীভাবে আচরণ করতে পারে এবং কোন ধরনের চিকিৎসায় রোগীর প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, সে বিষয়েও তথ্যভিত্তিক ধারণা তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রেডিওথেরাপিতে প্রযুক্তির ব্যবহার। ল্যাবএইডের রেডিওথেরাপি বিভাগে ট্রুবিম লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও লিভারের গভীরে থাকা জটিল টিউমারকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্য করা যায়। রিয়েল-টাইম ইমেজিং, রোগীর নড়াচড়া সংশোধন এবং রশ্মির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তির সমন্বয়ে টিউমারকে লক্ষ্য করে বিকিরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এতে আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

ক্যান্সার চিকিৎসার সাফল্যকে শুধু রোগী কত দিন বেঁচে থাকলেন, সেই সূচকে দেখতে চান না সাকিফ শামীম। তাঁর দৃষ্টিতে চিকিৎসার পর রোগীর জীবনযাত্রার মান, অঙ্গের কার্যক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে অস্ত্রোপচারহীন ও অঙ্গ-সংরক্ষণকারী চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আধুনিক অনকোলজিতে রোগ নির্মূলের পাশাপাশি রোগীর জীবনযাত্রার মান ধরে রাখাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ধারণাই এখানে সামনে এসেছে।
ল্যাবএইডের পরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত চিকিৎসা তথ্যের ব্যবহার। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডের প্রায় ৪০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি ডেটাসেট রয়েছে । এতে ইমেজিং, প্যাথলজি এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ফলাফলের মতো তথ্য রয়েছে। এই তথ্য ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের চিকিৎসাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মেশিন লার্নিং মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখানে স্থানীয় তথ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে সামনে আসে। বিশ্বব্যাপী অনেক ক্যান্সার গবেষণা ও চিকিৎসা পদ্ধতি পশ্চিমা জনগোষ্ঠীর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশের ও দক্ষিণ এশিয়ার রোগীদের ক্যান্সারের প্রবণতা, চিকিৎসায় প্রতিক্রিয়া এবং জনমিতিক পার্থক্য শনাক্ত করতে স্থানীয় তথ্যভান্ডারকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রেডিওলজি ও চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তাকারী ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ কাঠামোবদ্ধ তথ্য ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে।
এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ল্যাবএইডের নিজস্ব ‘লুনা’ নামের সেকেন্ড-ওপিনিয়ন সিস্টেম রয়েছে। জটিল ক্লিনিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক তথ্য এবং রোগীর পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। ফলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ পৌঁছে দিতে হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেলেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো সব রোগীকে ঢাকার কেন্দ্রীয় অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল না রেখে আঞ্চলিক ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ করা। এসব স্যাটেলাইট সেন্টারকে ঢাকার কেন্দ্রীয় অনকোলজি হাবের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং কেন্দ্রীয় টিউমার বোর্ডের পর্যালোচনার মাধ্যমে সেবার মান একই রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে ‘লাইফপ্লাস বাংলাদেশ’ অ্যাপ্লিকেশনকেও নতুনভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে টেলিমেডিসিন ও হোম কেয়ারের পাশাপাশি পূর্বাভাসভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্যবহারকারীর জীবনধারা, পারিবারিক ইতিহাস ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে উপসর্গ প্রকাশের আগেই ক্যান্সারের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং স্ক্রিনিংয়ের সম্ভাব্য পথ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই চিকিৎসা সবার নাগালের মধ্যে আসে না। দীর্ঘমেয়াদি ক্যান্সার চিকিৎসায় পরিবারের নিজস্ব অর্থ ব্যয়ের চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এ বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর্থিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা বীমা অনুমোদনে বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পিছিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন সাকিফ শামীম। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়নের কাঠামো বদলাতে ল্যাবএইড ইন্সিওরটেক কোম্পানি লিমিটেড চালুর কথা বলা হয়েছে।
এই উদ্যোগে হাসপাতাল, বীমা কোম্পানি ও রোগীকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এআই-সহায়তা পাওয়া দাবি যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে বীমা প্রক্রিয়ার বিলম্ব কমানো এবং অনুমোদন দ্রুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রয়োজনীয় ক্যান্সারের ওষুধের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উন্নত অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ল্যাবএইডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্সেসের মাধ্যমে অনকোলজি নার্স, মেডিকেল ফিজিসিস্ট ও ডেটা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। শিক্ষাকে বাস্তব ক্লিনিক্যাল পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে কর্মজীবনের শুরুতেই আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্য রয়েছে ল্যাবএইডের। প্রতিষ্ঠানটি ৩ হাজার ৫০০ শয্যায় সক্ষমতা বাড়ানোর পথে রয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে বর্তমান ২০০ মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি আয় থেকে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মাউন্ট সাইনাই, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল, সিমেন্স ও জিইর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও গবেষণার সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ল্যাবএইডের বর্তমান পরিকল্পনায় ক্যান্সার চিকিৎসাকে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক সেবা হিসেবে দেখার পরিবর্তে প্রযুক্তি, তথ্য, গবেষণা, অর্থায়ন, ওষুধ সরবরাহ এবং দক্ষ জনবল—সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা দেখা যায়। এই মডেলের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি সেবার সহজলভ্যতা, চিকিৎসার মান এবং রোগীর সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য কতটা তৈরি করা যায় তার ওপর। সাকিফ শামীমের ভাষায়, লক্ষ্য হলো এমন একটি টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রযুক্তি, গবেষণা, সহজলভ্যতা ও মানবকেন্দ্রিক সেবা একসঙ্গে এগোবে। আর ক্যান্সার চিকিৎসার সিদ্ধান্ত যেন শেষ পর্যন্ত রোগীর আর্থিক সীমাবদ্ধতায় নয়, চিকিৎসাগত প্রয়োজনেই নির্ধারিত হয়—এই লক্ষ্যই উদ্যোগটির সবচেয়ে বড় বার্তা।