![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী বুয়েনস আইরেসসহ একাধিক স্থানে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফাইনাল শেষ হওয়ার পর হাজারো ফুটবল সমর্থক বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক এলাকায় জড়ো হন। শুরুতে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন একদল সমর্থক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে কাচের বোতল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। এর জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় এক দাঙ্গা পুলিশ সদস্য একজন সমর্থকের মাথায় লাথি মারছেন। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদেরও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারতে দেখা গেছে। এসব ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ফাইনাল শেষে মাঠের ঘটনাও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরাজয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার স্পেনের খেলোয়াড়দের ধাক্কা, ঘুষি ও লাথি মারেন। এছাড়া ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের খেলোয়াড়দের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়ানোর ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ক্রীড়াসুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে পরাজয়ের পরও দেশের জাতীয় দলকে সম্মান জানাতে জাতীয় ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। তবে ছুটির দিন নির্ধারণের দায়িত্ব তিনি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, জাতীয় দলের অর্জন উদযাপনের জন্য খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে দিনটি নির্ধারণ করবেন, সেদিনই জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, কুসংস্কারের কারণে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ দেখতে যাননি। তার বিশ্বাস ছিল, আগের ম্যাচগুলোতে মাঠে উপস্থিত না থাকায় দল জয় পেয়েছে, তাই ফাইনালেও অনুপস্থিত থাকাই সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
এদিকে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও দলের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফাইনালে হার অবশ্যই কষ্টের, তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্বিত। খেলোয়াড়রা পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং জয়-পরাজয় উভয় ক্ষেত্রেই মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।