ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের জন্যই নয়, বরং মাঠজুড়ে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ফাউল, উত্তেজনা, লাল কার্ড এবং একাধিক সংঘর্ষের কারণেও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে ম্যাচজুড়ে দুই দলের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল কঠোর ট্যাকল, রেফারির সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের আচরণ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১৪তম মিনিটে দানি ওলমোর ওপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শক্ত ট্যাকল ম্যাচের উত্তেজনার সূচনা করে। এরপর লামিন ইয়ামালকে থামাতে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর রুক্ষ চ্যালেঞ্জও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মতে, সে সময় হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
তবে প্রথম হলুদ কার্ড আসে ম্যাচের ৪১তম মিনিটে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ স্পেনের মিখেল ওয়ারসাবালকে পেছন থেকে বিপজ্জনক ট্যাকল করলে রেফারি তাকে সতর্ক করেন। প্রথমার্ধের পর থেকেই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে লিয়ান্দ্রো পারেদেস রদ্রির পিঠে কনুইয়ের আঘাত করলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে আয়মেরিক লাপোর্তে লিওনেল মেসিকে থামাতে ফাউল করলে স্পেনের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ অফিসিয়াল।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ আপত্তিকর আচরণের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন। কিন্তু নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৯৩তম মিনিটে। পাউ কুবরসির ওপর বিপজ্জনক স্টাড ট্যাকল করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এনজোকে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটি অন্যতম আলোচিত লাল কার্ড হিসেবে জায়গা করে নেয়।
১০ জনের আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে অতিরিক্ত সময়ে আরও আক্রমণ বাড়ায় স্পেন। ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড পেয়ে খুব কাছ থেকে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই গোলেই ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
শেষ বাঁশি বাজার পরও উত্তেজনা থামেনি। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে প্রবেশ করেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলায় ধাক্কা দিলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যদিও স্পেনের খেলোয়াড়রা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাননি।
পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা রক্ষণাত্মক ও শারীরিক ফুটবলের ওপর নির্ভর করলেও তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। ম্যাচজুড়ে একাধিক বিতর্কিত ট্যাকল, হলুদ ও লাল কার্ড এবং রেফারিং নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাটকীয় ও বিতর্কিত ফাইনালগুলোর তালিকায় ২০২৬ সালের এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।