
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘিরে চট্টগ্রামে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির শেষপর্বে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান পরিণত হয়েছে জনসমাগমের অন্যতম কেন্দ্রে।
সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হয়। পরে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করা হয়।
লংমার্চের সমাপনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই লালদীঘি ময়দানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন। মিরসরাইয়ের কর্মসূচি শেষ করে মূল লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রাম নগরীর দিকে এগিয়ে আসে।
সমাবেশে অংশ নিতে আসা অনেকেই জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবি এবং শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য সরাসরি শুনতেই তারা লালদীঘি ময়দানে এসেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব দাবির গুরুত্ব রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।
বাঁশখালী থেকে আসা আবু সালেহ বলেন, ছয় দফা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি নয়; এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ও জড়িত। তাই কষ্ট করে চট্টগ্রামে এসে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। সরকার দাবি না মানলে আন্দোলন আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।
সাতকানিয়া থেকে আসা বেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে ১১ দলের নেতারা কী বার্তা দেন এবং পরবর্তী সময়ে কী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, তা জানতেই তিনি সমাবেশে এসেছেন।
১১ দলের ছয় দফা দাবি
আয়োজকদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা মনে করছেন, এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে।
পথে পথে কর্মসূচি
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সব স্থানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেননি। অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে মূল গাড়িবহর সেখানে পৌঁছায়।
লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও অংশ নিয়েছেন। কর্মসূচিকে ঘিরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়।
লালদীঘিতে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশকে ঘিরে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মূল গাড়িবহর এবং শীর্ষ নেতাদের অপেক্ষায় সেখানে অবস্থান নেন।
সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের অনেকেই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলেও প্রত্যাশা করছেন তারা।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। তবে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না এলে আন্দোলনের ধরন আরও কঠোর হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন জোটের নেতারা।
সব মিলিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের সমাপনী সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।
পাঠকের মন্তব্য