ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের ফাঁকে তেহরানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে ইরানের কাছে কূটনৈতিক সমর্থন, আর্থিক সহযোগিতা এবং সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল দারউইশের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ৪ জুলাই তেহরানে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ দেশটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে হামাস ইরানের কাছে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক আলোচনায় তেহরান যেন হামাসের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে—এমন অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া গাজা উপত্যকায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ কিংবা অঞ্চলটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনো আন্তর্জাতিক প্রস্তাব ইরান প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ইরান হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হামাস ও হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের এই অবস্থান গাজা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি উদ্যোগের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংগঠনটির পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে অনড় অবস্থান শান্তি আলোচনায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি করছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ প্রায় দুই বছর ধরে চলার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বা শান্তি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
হামাস বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে সংগঠনটির সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবি ইসরায়েল শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হামাস ও ইরানের এই বৈঠক আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য বা আলোচনার আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পাঠকের মন্তব্য