ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে কঠোর জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না।
লেভিট জানান, ইরান এখনো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালালে ইরানকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এর একদিন আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইরানে আটক থাকা এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ায় প্রকাশ্যে ইরানকে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাব্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। গত জুনে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একাধিক দফায় সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তাহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংকটের মধ্যে একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা, অন্যদিকে কঠোর সামরিক অবস্থান ধরে রাখা—এই দুই কৌশল একসঙ্গে অনুসরণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
পাঠকের মন্তব্য