
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
একই মাঠ, একই শহর—কিন্তু স্বাগতিক দল ভারত নয়, আফগানিস্তান। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। তবে ক্রিকেটের এই লড়াইয়ে ‘হোম’ দলের মর্যাদা পাচ্ছে ইব্রাহিম জাদরানের নেতৃত্বাধীন আফগান দল।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে দুই দলের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হলেও সিরিজটির স্বাগতিক হিসেবে থাকছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। ক্রিকেটে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
কয়েক মাস আগেও অবশ্য পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক ছিল ভারত, আর আফগানিস্তান ছিল সফরকারী দল। এবার সেই হিসাব বদলে গিয়ে ভারতের বিপক্ষেই নিজেদের ‘হোম সিরিজ’ আয়োজন করছে আফগানিস্তান।
ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের হোম সিরিজ
নিরাপত্তাজনিত কারণে অতীতে আফগানিস্তান নিজেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ভারতের বিভিন্ন ভেন্যু ব্যবহার করেছে। দেরাদুন, গ্রেটার নয়ডা, লক্ষ্ণৌ ও দিল্লির মতো শহরে আফগানিস্তান নিজেদের হোম ম্যাচ আয়োজন করেছে।
তবে এবারকার আয়োজনের বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে নিজেদের ‘ঘরের মাঠে’ ভারতকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে আফগানিস্তান। ফলে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম হয়ে উঠছে আফগানিস্তানের হোম ভেন্যু, যদিও ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ভারতের রাজধানীতেই।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে আমিরাতকে নিজেদের হোম বেস হিসেবে ব্যবহার করেছে আফগানিস্তান।
তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এবার ভারতের ভেন্যুকে অগ্রাধিকার দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
আর্থিক সুবিধাও পাবে আফগানিস্তান
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এই আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘হোম’ দলের মর্যাদা পাওয়ায় মাঠের সুবিধার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হবে আফগানিস্তান। স্বাগতিক দল হিসেবে সম্প্রচারস্বত্ব ও টিকিট বিক্রির আয়ের বড় অংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের মিডিয়া স্বত্ব থেকে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে। দিল্লির মতো বড় শহরে দর্শকদের আগ্রহও ভালো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে টিকিট বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে আফগানিস্তান।
ইব্রাহিম জাদরানের নেতৃত্বের পরীক্ষা
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজটি আফগানিস্তানের নতুন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব পাওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে তার অন্যতম বড় পরীক্ষা।
অন্যদিকে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতও মাঠে নামবে নিজেদের সাম্প্রতিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে। ঘরের মাঠে ম্যাচ হলেও এবার স্বাগতিকের মর্যাদা ভারতের হাতে থাকছে না—এটিও সিরিজটিকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে।
তবে মাঠের খেলায় এসব হিসাব কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই দেখার বিষয়। দুই দলের শক্তি, কৌশল ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সিরিজের ফল।
এশিয়ান গেমসের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি
সামনে রয়েছে ২০২৬ এশিয়ান গেমস। জাপানে অনুষ্ঠেয় এই আসরে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভারত ও আফগানিস্তানের। ফলে দিল্লির টি-টোয়েন্টি সিরিজটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করছে।
এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, সমন্বয় ও কৌশল যাচাই করতে পারবে দুই দলই। বিশেষ করে আফগানিস্তানের জন্য ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজটি নতুন নেতৃত্ব ও দলীয় পরিকল্পনা পরীক্ষা করার বড় সুযোগ।
সব মিলিয়ে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হলেও আফগানিস্তানের ‘হোম সিরিজ’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ ক্রিকেটে একটি বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা হতে যাচ্ছে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে এবার তাই শুধু ভারত-আফগানিস্তানের লড়াই নয়, ‘স্বাগতিক’ আফগানিস্তানকে ঘিরেও থাকবে বাড়তি আগ্রহ।
পাঠকের মন্তব্য