
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সদস্যদেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ চালুর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আল জাসের।
ইউনূস সেন্টারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মুহাম্মদ আল জাসের।
সাক্ষাতে উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দর্শন ও দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ক্ষুদ্রঋণ, গ্রামীণ ব্যাংক, সামাজিক ব্যবসা এবং অধ্যাপক ইউনূসের আলোচিত ‘তিন শূন্য’ ধারণা নিয়েও মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা।
‘তিন শূন্য’ ধারণার মধ্যে রয়েছে—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ।
বিজ্ঞপ্তিতে মুহাম্মদ আল জাসেরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক তার সদস্যদেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালুর বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনা করছে।
ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে গ্রামীণের বিভিন্ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার জন্য ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূসের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই দল গ্রামীণের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক কোন কোন পদ্ধতি নিজেদের সদস্যদেশগুলোতে প্রয়োগ করতে পারে, তা চিহ্নিত করতে পারবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ
সাক্ষাতের সময় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, এই অর্থায়ন চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকারও প্রতিফলন ঘটেছে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূসের কাজ ও দর্শনের প্রশংসা করেন মুহাম্মদ আল জাসের। তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ তরুণের মধ্যে প্রচলিত চাকরির ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তারা নিজেদের শুধু চাকরিজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী নন।
তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির গুরুত্বও উঠে আসে।
বাংলাদেশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর একটি আলোচিত মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সেই অভিজ্ঞতা এখন অন্যান্য দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমেও কাজে লাগাতে চায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক।
প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিব ইউসুফ আল আমা, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আসিয়ামি এবং আইটিএফসির ট্রেড ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবদিহামিদ আবু।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যালোচনার পর সদস্যদেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ বাস্তবায়নে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
পাঠকের মন্তব্য