![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির সামরিক বাহিনীর এই দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির তেহরান শাখার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ বলেন, তেহরান, কুম, মাশহাদ এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালা—এই পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত জানাজা, শোকসভা ও দাফন-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্মিলিতভাবে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
তার দাবি, এটি শুধু ইরানের ইতিহাসেই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শোকসমাবেশে পরিণত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ইসলামী ঐক্য, সংহতি এবং প্রতিরোধের বার্তা বহন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা জানান, ইরানের পাশাপাশি ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত এবং কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ শোকানুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরান ও ইরাকে ভ্রমণ করেন। বিভিন্ন শহরে কয়েক দিনব্যাপী আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নামে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হয়। এর আগে তেহরান, কুম এবং ইরাকের একাধিক শহরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে আইআরজিসির এই দাবির স্বাধীন বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে ৪ কোটির বেশি মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি এখনো ইরানের সরকারি দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যু এবং তাকে ঘিরে আয়োজিত শোকানুষ্ঠান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন ইরানের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও আঞ্চলিক প্রভাবের বার্তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য