![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন। শনিবার রাতে আকস্মিক অসুস্থতার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর কার্যালয় রোববার এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার এই রিপাবলিকান সিনেটরের কার্যালয় জানায়, তিনি ‘স্বল্প সময়ের আকস্মিক অসুস্থতায়’ মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাসভবন থেকে হৃদ্রোগজনিত জরুরি অবস্থার খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে ছুটে যান।
লিন্ডসে গ্রাহাম রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক ছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন। পররাষ্ট্রনীতি, বিচার বিভাগে নিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তিনি রিপাবলিকানদের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গ্রাহামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তাঁকে হারানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং অসাধারণ সিনেটর। ট্রাম্প জানান, ইউক্রেন সফর থেকে ফিরে শনিবার রাতেও গ্রাহাম তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার আইন অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার সিনেটের শূন্য আসনে অন্তর্বর্তীকালীন একজন প্রতিনিধি নিয়োগ দেবেন। পরে বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সিনেটর নির্বাচিত হবেন। রাজ্যটি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় সিনেটে দলীয় ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
পররাষ্ট্রনীতিতে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত গ্রাহাম ইসরায়েল ও ইউক্রেনের জোরালো সমর্থক এবং ইরানের কট্টর সমালোচক ছিলেন। মৃত্যুর দিনই এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। জেলেনস্কি তাঁকে ‘স্বাধীনতার অকুতোভয় রক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আর নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এবং যুক্তরাষ্ট্র একজন মহান দেশপ্রেমিককে হারাল।’
পাঠকের মন্তব্য