![]()
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঘানার এক ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঘানার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু দাবি করেছিলেন, তার অভিশাপের কারণে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ওই ম্যাচে গোল করতে পারবেন না। কাকতালীয়ভাবে কেইন একাধিক সহজ সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পাননি। এমনকি প্রায় ফাঁকা পোস্ট পেয়েও বল উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় নানা কোয়াকুর দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরপর আরও বড় একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি। দাবি করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দের কাছে হেরে বিদায় নেবে। সেই বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে মাঠের ফল বলেছে ভিন্ন গল্প। বাংলাদেশ সময় ৪ জুলাই ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে নকআউটে ওঠা আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরু থেকেই এগিয়ে থাকলেও কেপ ভার্দে একাধিকবার সমতায় ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই আলোড়ন তোলে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৪ নম্বরে থাকা দলটি গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে নকআউটে জায়গা করে নেয় এবং আর্জেন্টিনাকেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠিন পরীক্ষায় ফেলে।
১২০ মিনিটের এই ম্যাচে নাটকীয়তার কোনো ঘাটতি ছিল না। একদিকে লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স, অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার একের পর এক দুর্দান্ত সেভ ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। কেপ ভার্দের একাধিক প্রত্যাবর্তনে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
ম্যাচ শেষে স্বস্তির উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সাহসী লড়াই করেও বিদায় নিতে হয় কেপ ভার্দেকে। শেষ আটে এখন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসর।
এদিকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা নানা কোয়াকুর নিজের দেশ ঘানাই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে আফ্রিকার দলটি।
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলম্বিয়ার হাতে। বল দখল ও আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা দলটি ১৪তম মিনিটে জন আরিয়াসের গোলে লিড নেয়। শেষ পর্যন্ত সেই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। বরং পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ৫৬তম মিনিটে লুইস দিয়াজ গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপরও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ঘানার গোলরক্ষক দলকে আরও বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচান।
ম্যাচের শেষ দিকে ঘানা মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও কলম্বিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় কলম্বিয়া। ফলে আর্জেন্টিনার বিদায়ের যে ভবিষ্যদ্বাণী নানা কোয়াকু করেছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নেওয়ার বদলে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তার নিজের দেশ ঘানাকে।
পাঠকের মন্তব্য