![]()
এন্টারপ্রেনার বাংলাদেশ ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ৯৫ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে বিদায় নিয়েছে জাপান। মাঠের ফলাফল জাপানের জন্য হতাশার হলেও, অর্থনীতি ও ফুটবল ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিদায়ের গল্পটি ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা, বিজ্ঞাপন আয় এবং বিশ্বকাপ ঘিরে পরিচালিত বিভিন্ন বিপণন কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব পড়বে। নকআউট পর্বে দলের উপস্থিতি যত দীর্ঘ হয়, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান, স্পনসর ব্র্যান্ড এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য তত বেশি বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হয়। সেই হিসেবে জাপানের বিদায় কিছু স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে চিত্রটি ভিন্ন হতে পারে।
ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলের বিপক্ষে জাপানের সংগঠিত রক্ষণ, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স আবারও দেখিয়েছে যে এশিয়ার ফুটবল এখন আর কেবল অংশগ্রহণের পর্যায়ে নেই; বরং বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ম্যাচ শেষে জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে জাপানের ব্যবধান এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তাঁর এই মূল্যায়ন শুধু ক্রীড়া দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, ফুটবল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
অর্থনীতিবিদ ও ক্রীড়া বিপণন বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্লাব, স্পনসর এবং বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে ভবিষ্যতে এশিয়ার ফুটবল বাজারে আরও বেশি বিনিয়োগ, সম্প্রচার অধিকার বিক্রি, স্পনসরশিপ চুক্তি এবং খেলোয়াড় উন্নয়ন কর্মসূচিতে আগ্রহ বাড়তে পারে।
বিশেষ করে জাপান ইতোমধ্যেই এশিয়ার অন্যতম পরিণত ফুটবল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। দেশটির পেশাদার লিগ, যুব উন্নয়ন কাঠামো, খেলোয়াড় রপ্তানি এবং করপোরেট স্পনসরশিপ মডেল বহু দেশের জন্য অনুসরণীয়। এবারের বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্স সেই ব্র্যান্ড ভ্যালুকেই আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে বিদায় নেওয়া জাপানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থকদের ইতিবাচক মনোভাবও দেশটির ফুটবল ব্র্যান্ডকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে পর্যটন, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, ক্লাব অংশীদারত্ব এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ থেকে জাপানের বিদায় স্বল্পমেয়াদে কিছু আর্থিক ক্ষতির কারণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি এশিয়ার ফুটবল অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে যে এশিয়ার বাজার এখন বৈশ্বিক ফুটবল শিল্পের জন্য ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশ্বকাপে জাপানের যাত্রা শেষ হলেও, ফুটবল ব্যবসা ও বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের গল্প সম্ভবত এখনই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।
পাঠকের মন্তব্য