![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় ঢাকাসহ দেশের চারটি মহানগর ও দুটি জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার থেকেই সেনা সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার মনে করছে, কিছু মহল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ কারণেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে তারা হয়তো একটি অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে। সে বিবেচনায় আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জসহ মোট চারটি মহানগর এবং আরও দুটি জেলায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই মোতায়েন কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। পরবর্তীতে গত ১৫ জুন সেই মোতায়েন প্রত্যাহার করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পুনরায় সেনা সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি অফিস, পরিবহন কেন্দ্র এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত করা যায়।