ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও পারমাণবিক ইস্যুকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আলোচনা ঠিক কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান চাইছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা আলোচনায় পূর্ণমাত্রায় অংশগ্রহণ করুক।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। তার উপস্থিতি এই আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক প্রভাবশালী দূত জ্যারেড কুশনারও সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে বড় ধরনের কোনো সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজের সফর স্থগিত করেন। হোয়াইট হাউস এখনো নিশ্চিত করেনি, তিনি সপ্তাহান্তে সুইজারল্যান্ডে যোগ দেবেন কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থারও একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর সুইজারল্যান্ডের দিকে। কারণ এই আলোচনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যতের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
পাঠকের মন্তব্য