ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর সাধারণত দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক ক্রেতাই আশঙ্কা করেন, বাজেটের প্রভাবে বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং দৈনন্দিন খরচের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। বরং সবজি, ডিম, মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বাজারে আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা, বরবটি, কাঁকরোল, বেগুন ও শসার দামও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ধনেপাতা প্রতি আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে অন্যান্য সবজির তুলনায় গাজরের দাম কিছুটা বেশি, যা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডিম ও মুরগির বাজারে ফিরেছে স্বস্তি
সাম্প্রতিক সময়ে ডিম ও মুরগির দাম নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
ঈদ-পরবর্তী সময়েও গরুর মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল
মাছের বাজারেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি। পাঙাশ মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই মাছ ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মৃগেল, পাবদা, পোয়া, টাকি, কই ও শিং মাছের দামও আগের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে চিংড়ি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও প্রজাতি অনুযায়ী প্রতি কেজি চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি টেংরা ও বাইম মাছের দামও কিছুটা বেশি রয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি
বাজারে আসা অনেক ক্রেতা বলছেন, বাজেটের পর পণ্যের দাম না বাড়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরাও। তবে এই স্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাজারগুলোতে যে স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার প্রত্যাশা, এই স্থিতিশীলতা যেন দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।
পাঠকের মন্তব্য